তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৯ এপ্রিল ২০১৮

মহাপরিচালক জনাব এ কে এম খায়রুল আলম - এর জীবন বৃত্তান্ত

জনাব এ,কে,এম, খায়রুল আলম ৩১ ডিসেম্বর ১৯৫৯ সালে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার অন্তর্গত দেবিদ্বার পৌরসভার বানিয়াপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে বিএসএস (সম্মান) এবং এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস  (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা।

 

জনাব এ,কে,এম খায়রুল আলম ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সহকারী কমিশনার হিসেবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় রাজশাহীতে সরকারী চাকরি জীবন শুরু করেন। সেখানে ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন হওয়ার পর পাবনা কালেক্টরেটে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়মিত পোস্টিং লাভ করেন। তিনি মাঠ পর্যায়ে সহকারী কমিশনার, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি  জেলা প্রশাসক হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ বন শিল্প  উন্নয়ন কর্পোরেশনে জেনারেল ম্যানেজার, সচিব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উপ-সচিব হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগ, যুগ্ম সচিব হিসেবে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ০৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন।

 

চাকুরী জীবনে তিনি দেশে বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি বিএমএ প্রশিক্ষণ, ট্রেজারি প্রশিক্ষণ, বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ, আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ, সার্ভে ও সেটেলমেন্ট প্রশিক্ষণ, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ (সংক্ষিপ্ত কোর্স), শিশু অধিকার বিষয়ে বেসিক প্রশিক্ষণ, জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, হিসাব এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, পরিবেশগত ব্যবস্হাপনা কোর্স, এসিএডি কোর্স, ম্যানেজিং এট দি টপ-২ প্রশিক্ষণ এবং সিনিয়র স্টাফ কোর্সসহ চাকরির অত্যাবশ্যকীয় সকল প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন। তিনি প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সফর উপলক্ষে সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, ভারত, চীন, ভিয়েতনাম ও সৌদি আরব ভ্রমণ করেন।

জনাব এ,কে,এম,খায়রুল আলম জীবনের প্রতিটি স্তরেই নিজের দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন। তিনি মানব সম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন বা প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত থেকেছেন। তিনি কক্সবাজার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি খাগড়াছড়ি জেলায় জেলা প্রশাসক থাকা কালে খাগড়াছড়ি বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দেবিদ্বার পৌর এলাকায় জালাল উদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন এবং জালাল উদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাছাড়াও সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীম উদ্দিন হল এলামনাই এসোসিয়েশনের পৃষ্ঠপোষক সদস্য। তিনি অসহায় দরিদ্র রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় দেবিদ্বার পৌর এলাকায় জালাল উদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন কমিউনিটি ভিত্তিক মা, শিশু ও ডায়াবেটিক হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন।

তিনি খাগড়াছড়ি জেলায় জেলা প্রশাসক থাকা কালে উচ্চ ফলনশীল ধানের ফলন বৃদ্ধির জন্য সর্বপ্রথম সারা জেলায় লাইন করে ধানের চারা লাগানোর পদ্ধতি চালু করেন। পূর্বে এই জেলার কৃষকগণ এলোমেলো ভাবে ধানের চারা রোপণ করতেন। তাছাড়া পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য তিনি জেলায় পার্সিং পদ্ধতি চালু করেন। খাগড়াছড়ি জেলায় রাসায়নিক সার বরাদ্দের স্বল্পতা থাকায় জেলায় কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য রেশনিং পদ্ধতিতে সার বন্টন করা হতো।  জেলার চাহিদা মোতাবেক সার বরাদ্দ প্রাপ্তির জন্য তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ নিশ্চিত করেন এবং সারের রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেন যা আজও অব্যাহত আছে।  তিনি খাগড়াছড়ি সহ তিন পার্বত্য জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০১৭ সালে তিনি ইন্দিরা গান্ধী পদক এবং মহাত্মা গান্ধী শান্তি পদকে ভূষিত হন।

 

তিনি অসাধারণ কর্মদক্ষতার মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর যাবত প্রশাসনের বিভিন্ন পদে কর্মরত থেকে তাঁর যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

 

তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম জালাল উদ্দিন আহমেদ এবং মরহুমা জমিলা খানম এর চতুর্থ সন্তান। তাঁর স্ত্রীর নাম সাজেদা বেগম এবং তিনি তিন কন্যা সন্তান ডা: রাইসা বিন্‌তে খায়রুল, তামান্না বিন্‌তে খায়রুল ও তাসনি্‌ম বিন্‌তে খায়রুল এর জনক।


Share with :
Facebook Facebook